আপনার অজান্তেই কি ওষুধ দাঁতের ক্ষতি করছে? জেনে নিন বিস্তারিত

 

সুস্থ থাকার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, সাধারণ কিছু ওষুধ আপনার হাসির সতেজতা কেড়ে নিতে পারে? অনেক জীবনরক্ষাকারী বা নিয়মিত সেবনযোগ্য ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মুখগহ্বর এবং দাঁতের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ওষুধগুলো দাঁতের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে:

১. শুষ্ক মুখ বা ড্রাই মাউথ (Dry Mouth) সৃষ্টিকারী ওষুধ

দাঁতের সুরক্ষায় লালা (Saliva) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মুখ পরিষ্কার রাখে এবং অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। কিন্তু ৪৫০-এরও বেশি ওষুধ আছে যা লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়।

  • কোন ওষুধ: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, অ্যান্টি-হিস্টামিন (অ্যালার্জির ওষুধ), অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট (মানসিক রোগের ওষুধ) এবং ব্যথানাশক ওষুধ।

  • ক্ষতি: মুখ শুকিয়ে গেলে দাঁতে দ্রুত ক্যাভিটি বা ক্ষয় রোগ এবং মাড়িতে ইনফেকশন দেখা দেয়।

২. মাড়ির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (Gum Overgrowth)

কিছু ওষুধের প্রভাবে মাড়ির টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা দাঁতকে ঢেকে ফেলে। একে 'জিঞ্জিভাল হাইপারপ্লাসিয়া' বলা হয়।

  • কোন ওষুধ: মৃগীরোগের ওষুধ (যেমন: ফেনিটোইন), উচ্চ রক্তচাপের ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার (যেমন: নিফেডিপিন) এবং ইমিউনোসপ্রেসেন্ট ওষুধ।

  • ক্ষতি: মাড়ি ফুলে যাওয়ার ফলে খাবার জমে থাকে এবং ব্যাকটেরিয়া জন্মে মাড়ির অসুখ বা পেরিওডন্টাইটিস সৃষ্টি করে।

৩. দাঁতের বিবর্ণতা (Tooth Discoloration)

কিছু ওষুধ দাঁতের স্বাভাবিক সাদা রঙ পরিবর্তন করে ফেলে, যা স্থায়ী হতে পারে।

  • কোন ওষুধ: টেট্রাসাইক্লিন এবং ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক।

  • ক্ষতি: গর্ভবতী মায়েরা বা ৮ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে দাঁতে স্থায়ীভাবে ধূসর বা বাদামী দাগ পড়ে যেতে পারে।

৪. চিনিযুক্ত সিরাপ এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট

শিশুদের অধিকাংশ সিরাপই সুস্বাদু করার জন্য প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

  • কোন ওষুধ: কাশির সিরাপ এবং তরল ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট।

  • ক্ষতি: সিরাপের চিনি দাঁতে লেগে থেকে ক্যাভিটি তৈরি করে। আবার তরল আয়রন দাঁতে কালো দাগ সৃষ্টি করতে পারে।

৫. অস্টিওপোরোসিসের ওষুধ ও চোয়ালের হাড়ের ক্ষতি

হাড় ক্ষয় রোধে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ বিরল ক্ষেত্রে চোয়ালের হাড়ের টিস্যু নষ্ট করে দিতে পারে (Osteonecrosis of the jaw)।

  • কোন ওষুধ: বিসফসফোনেট জাতীয় ওষুধ।

  • ক্ষতি: এটি চোয়ালের হাড়ের রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে দাঁত পড়ে যাওয়া বা হাড়ের ইনফেকশন হতে পারে।


প্রতিকারের উপায়: আপনি যা করতে পারেন

১. প্রচুর পানি পান: মুখ শুষ্ক রাখা যাবে না। বারবার পানি পান করে মুখ আর্দ্র রাখুন। 

২. চিনিমুক্ত চুইংগাম: সুগার-ফ্রি চুইংগাম চিবানো লালা নিঃসরণে সাহায্য করে। 

৩. ওষুধের পর কুলি করা: সিরাপ বা লজেন্স জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পর অবশ্যই পানি দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 

৪. ডাক্তারকে জানানো: ডেন্টিস্টের কাছে গেলে আপনি নিয়মিত কী কী ওষুধ খাচ্ছেন তা পরিষ্কারভাবে জানান। 

৫. ফ্লোরাইড টুথপেস্ট: দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত রাখতে ভালো মানের ফ্লোরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।


উপসংহার

ওষুধ সেবন বন্ধ করা সমাধান নয়, বরং সচেতনতাই মূল। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিয়ে সঠিক যত্ন নিলে দাঁতের ক্ষতি অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব।

ফলো করুন
শেয়ার করুন: