সুন্দর হাসির রহস্য লুকিয়ে থাকে সুস্থ দাঁতে। আমরা অনেকেই ত্বকের যত্ন বা চুলের যত্নে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করি, কিন্তু দাঁতের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ততটাই উদাসীন। দাঁতের এনামেল বা উপরের শক্ত আবরণটি একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসে না। তাই দামী ট্রিটমেন্ট বা ডেন্টিস্টের চেম্বারে দৌড়ানোর আগে জেনে নিন আপনার কোন ৫টি নিত্যদিনের অভ্যাস আপনার দাঁতের 'বারোটা' বাজাচ্ছে।
১. ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম ও সময় না মানা
অনেকেই মনে করেন জোরে জোরে ব্রাশ করলেই দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। আসলে বিষয়টি উল্টো।
ভুলটা কোথায়: খুব জোরে বা শক্ত ব্রাশ (Hard Bristles) ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায় এবং মাড়ি সরে যেতে পারে। একে 'টুথব্রাশ অ্যাব্রেশন' বলে।
সঠিক উপায়: সবসময় একটি সফট (Soft) ব্রাশ বেছে নিন এবং আলতো হাতে বৃত্তাকার বা 'সার্কুলার মোশনে' ব্রাশ করুন। দুই মিনিটের বেশি ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই।
২. দাঁতকে ‘সরঞ্জাম’ বা টুল হিসেবে ব্যবহার করা
ঠান্ডা পানীয়র বোতলের ছিপি খোলা, প্লাস্টিকের প্যাকেট ছেঁড়া কিংবা সুতা কাটার জন্য আমরা প্রায়ই দাঁত ব্যবহার করি।
ঝুঁকি: দাঁত দিয়ে এসব শক্ত কাজ করলে দাঁতে সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিতে পারে বা দাঁতের কোণা ভেঙে যেতে পারে।
সতর্কতা: মনে রাখবেন, আপনার দাঁত খাবার চিবানোর জন্য, বোতল খোলার 'ওপেনার' হিসেবে নয়! এসব কাজের জন্য কাঁচি বা ওপেনার ব্যবহার করার অভ্যাস করুন।
৩. খাওয়ার ঠিক পরেই ব্রাশ করা
শুনে অবাক মনে হতে পারে, কিন্তু খাওয়ার সাথে সাথেই ব্রাশ করা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।
কেন ক্ষতিকর: বিশেষ করে টক জাতীয় খাবার বা কোমল পানীয় খাওয়ার পর দাঁতের এনামেল সাময়িকভাবে নরম হয়ে থাকে। ওই অবস্থায় ব্রাশ করলে এনামেল দ্রুত ঘয় হয়ে যায়।
সমাধান: খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এই সময়ে মুখের লালা (Saliva) দাঁতের এনামেলকে পুনরায় শক্ত হতে সাহায্য করে। খাওয়ার পর শুধু জল দিয়ে কুলকুচি করে নেওয়া ভালো।
৪. ঘন ঘন মিষ্টি বা আঠালো খাবার খাওয়া
চকোলেট, চিপস বা ক্যান্ডি খাওয়ার চেয়েও ক্ষতিকর হলো এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়া।
সমস্যা: আপনি যখন বারবার মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খান, তখন মুখের ব্যাকটেরিয়া সেগুলো থেকে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতকে আক্রমণ করে ক্যাভিটি তৈরি করে।
পরামর্শ: স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ভারী খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। আর মিষ্টি কিছু খেলে দেরি না করে জল খেয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
৫. বরফ বা শক্ত কিছু চিবানো
অনেকেই গরমে পানীয়র সাথে থাকা বরফ কুচি চিবিয়ে খেতে পছন্দ করেন। এটি দাঁতের জন্য এক ধরণের ‘সাইলেন্ট কিলার’।
প্রভাব: বরফের অত্যধিক শীতলতা এবং এর কাঠিন্য দাঁতের এনামেলে ফাটল ধরাতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত শক্ত হাড় বা কড়া ভাজা খাবার নিয়মিত চিবানোও দাঁতের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
প্রবাদ আছে, "দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝা উচিত।" আপনার এই ছোট ছোট সচেতনতাই পারে দীর্ঘস্থায়ী দাঁতের সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে। আজই এই অভ্যাসগুলো বদলে ফেলুন এবং নিয়মিত (বছরে অন্তত একবার) ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
